শিক্ষানবিসের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং এর যতকথা

0
231

তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় কাজের ক্ষেত্র এখন বিশ্বব্যাপী।কম্পিউটার,ইন্টারনেটের এযুগে প্রথাগত চাকরির ধারনা একেবারেই পাল্টে গেছে ।বর্তমানে মূলধারার বাইরে যেকোন ধরনের পেশা আপনি অনায়েসে বেছে নিতে পারেন আপনার মনের মতো করে।আমরা কেউ চাইনা ভুল কাজ শিখে সময় নষ্ট করতে ।তাই আপনি যেকাজের জন্য তৈরী সেটাই বেছে নিন ।শুধু কাজ হতে হবে আপনার মনের মতো ।ধারনা করা হচ্ছে ,আগামীদিনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অফিসগুলো হবে ভার্চুয়াল অফিস।পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঘরে বসেই প্রতিষ্ঠানের সকল employee /নিয়োজিত ব্যক্তি অফিসের সমস্ত কাজ করে দিবে ।সময়ের পরিবর্তনে সবকিছুই প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে ।তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে ব্যবসা – বাণিজ্য ,চাকরি ,পড়াশোনা সবকিছু এগিয়ে যাচ্ছে প্রযুক্তির সঙ্গে ।

ডিজিটাল মার্কেটিং বর্তমানে খুবই জনপ্রিয় ।বর্তমান যুগ ডিজিটাল যুগ ।এই ডিজিটাল যুগে আপনার যদি ডিজিটাল মার্কেটিং এর কোন জ্ঞান না থাকে তাহলে সত্যিই খুব বেদনার কথা।এটা হলফ করে বলা যায় যে আপনার যদি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকে এবং আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং না করেন,তাহলে সেদিন খুব বেশী দূরে নই যে আপনি দোকানে বসে বসে মাছি মারবেন।মূলত এই খাতে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য সবার আগে প্রয়োজন হবে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে আগ্রহ।যেহেতু পুরো কাজটিই হয়ে থাকে তথ্যপ্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে।এছাড়া এই ব্যাপারে কিছু যোগ্যতা থাকতে হবে।শুরুতেই জানতে হবে যোগ্যতা সম্পর্কে ,আপনাকে অবশ্যই ইংরেজী ,কম্পিউটার এবং ইন্টারনেটে দক্ষ হতে হবে।এর মধ্যে আছে মার্কেটিং সম্পর্কে ভালো জ্ঞান,ডিজিটাল মার্কেটিং এর কিছু বিষয় ,ওয়েব ভিত্তিক বিভিন্ন তথ্য বুঝার ক্ষমতা।এর পাশাপাশি ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট হতে গেলে যেসব যোগ্যতা দরকার ,তার মধ্যে অন্যতম হলো ডেটা এনালাইসিস বা তথ্য বিশ্লেষণ।একটি প্রতিষ্ঠানের কোন পণ্য বাজারজাত করার ক্ষেত্রে সেই বাজারের সার্বিক অবস্থা,একই ধরনের অন্যান্য পণ্যের হালচাল এবং পণ্যটির জনপ্রিয়তা কেমন এসব কিছুই আমলে নিতে হয়।অর্থাৎ,সামগ্রিক ট্রেন্ড সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা এবং এর বিপরীতে নিজেদের মার্কেটিং কৌশল নির্ধারণ করাই হল ডেটা এনালাইসিসের কাজ।চলুন এবার মূল আলোচনায় আসা যাক।অনেকেই প্রশ্ন করেন ডিজিটাল মার্কেটিং জিনিসটা কী?প্রথম অবস্থায় বলে নেয় ডিজিটাল মার্কেটিং বিশাল একটা সেক্টর এবং এই সেক্টরটাতে আমাদের অনেক কিছুই করা সম্ভব।আমাদের জীবনযাত্রা অনেকদূর নিয়ে যেতে পারি ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে।সম্ভাবনাময় একটা কর্মস্থল হল ডিজিটাল মার্কেটিং।বিষয়গুলো সম্পর্কে হালকা একটা ধারনা দিয়ে যাই।ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে জানার আগে মার্কেটিং সম্পর্কে আমাদের একটু জ্ঞান থাকা দরকার।

মার্কেটিং কী?

মার্কেটিং নিয়ে অনেক বিজ্ঞজনেরা বিভিন্ন সময় অনেক রকম সংজ্ঞা দিয়েছেন।যদিও সকল সংজ্ঞার ম্যাসেজ বা বার্তা একই।সহজ ভাষায় বলতে গেলে,মার্কেটিং হল আপনার কোন পণ্য,ব্র্যান্ড অথবা সেবাকে প্রচার বা প্রসার করা ।আপনি যে ব্যবসাটা করছেন বা আপনি যে সেবাটা দিচ্ছেন তার ভোক্তা বা গ্রাহককে টার্গেট করে কত কম খরচে আপনার পণ্য বা সেবাকে তাদের কাছে পরিচিত করার পদ্ধতি বা প্রচার ও প্রসার মাধ্যম হল মার্কেটিং।পণ্য বা সেবার প্রচার -প্রসারের জন্য প্রতিষ্ঠানসমূহ ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে অনেক রকম কাজ করে। যেমন বিভিন্ন জায়গায় বিলবোর্ড ভাড়া নিয়ে বিজ্ঞাপন দেয়।বিভিন্ন মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দেয় ।বিশেষ বিশেষ দিনে ছাড় দেয় ।ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার জন্য এইসব কার্যক্রমকে মার্কেটিং বা বিপণন বলে।

ডিজিটাল মার্কেটিং কী ?

অনলাইনে পণ্য বা সেবা বিপননের(মার্কেটিং এর) মাধ্যমগুলোকে ডিজিটাল মার্কেটিং বলা হয়।সহজ কথায় যদি বলা হয়,তাহলে বলতে হয় আপনার কোম্পানির জন্য অনলাইনে মার্কেটিং করার সকল পদ্ধতিগুলোকে ডিজিটাল মার্কেটিং বলা যেতে পারে,অথবা ডিজিটাল মিডিয়াম ব্যবহার করে আপনার পণ্যের বা সেবার মার্কেটিং করাই ডিজিটাল মার্কেটিং।এখানে আপনার কোম্পানি ছাড়াও আপনি দেশ বিদেশের বিভিন্ন মানুষের কাজ ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে করে দিতে পারবেন।ডিজিটাল মার্কেটিং এর অপর নাম ইন্টারনেট মার্কেটিং।মূলত অনলাইনে সম্ভাব্য ক্রেতা খুঁজে বের করা এবং তার কাছে আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করে পণ্যটি বিক্রয় করাই হল ডিজিটাল মার্কেটিং।একটি কথা সবসময় মনে রাখা দরকার,ডিজিটাল মার্কেটিং মানেই ফেইসবুক এ বুস্ট করা নয়।এটি একটি মাধ্যম মাত্র।

সাধারণ মার্কেটিং আর ডিজিটাল মার্কেটিং এর মধ্যে পার্থক্য কী?

সাধারণত আমরা যে পার্থক্যটা করে থাকি তা হল এনালগ মার্কেটিং এবং ডিজিটাল মার্কেটিং।এনালগ মার্কেটিং বলতে বুঝি মাইকিং,পত্রিকায় ও টিভিতে বিজ্ঞাপন দেয়া অর্থাৎ ইন্টারনেটের কোন সংস্পর্শ ছাড়া বিজ্ঞাপন।অপরদিকে ডিজিটাল মার্কেটিং গড়ে উঠে ইন্টারনেটের উপর ভিত্তি করে।পরিষ্কারভাবে যাকে বলে ইন্টারনেটের উপর ভিত্তি করে যতরকম প্রচার ও প্রসার।

শুধু এইটুকু বুঝুন যে যখন আমরা পত্রিকায় কোন পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখি,তখন কিছু বিজ্ঞাপনদাতার এই ক্ষমতা থাকেনা যে সে বিজ্ঞাপনটি শুধু আপনাকে দেখাবে।কিন্তু অনলাইনে এটা সম্ভব।তাহলে যে বিজ্ঞাপনটির টার্গেট অডিয়েন্স শুধু আপনি (আপনার বয়সের সবাই ),সে বিজ্ঞাপনটি পত্রিকায় দিলে কিন্তু সব বয়সের মানুষজন দেখছে।যেমন ফেইসবুক বুস্টিং সিস্টেমের মাধ্যমে আমরা টার্গেটেড অডিয়েন্স এর কাছে পাঠাতে পারি,তেমনভাবে YouTube অথবা আমাদের পণ্যের ব্যাকলিংক করেও অনলাইনে অ্যাড দিয়ে আমরা আমাদের ইচ্ছানুযায়ী গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে পারি।

কেন ডিজিটাল মার্কেটিং প্রয়োজন ?

২০১৯ সালের পর ৯০% পণ্য অনলাইনে বিক্রয় হবে,প্রায় সকল পণ্যের মার্কেটিং হবে ডিজিটাল মার্কেটিং।তাই যে যত অ্যাডভান্স লেভেলের ডিজিটাল মার্কেটিং করবে সে তত এগিয়ে থাকবে।সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় নির্দিষ্ট গ্রাহকের কাছে চাইলে আপনি পৌঁছাতে পারবেন।বিভিন্ন বিজ্ঞপন দেওয়ার পর তার সঠিক ফিডব্যাক পাবেন,প্রয়োজনীয় ডাটা ব্যবহার করে মার্কেটিং করার ফলে তার প্রভাব বিজনেসে কেমন এবং কে কে দেখলো আপনার বিজ্ঞাপন আর দেখার পর কে কে সেবা বা পণ্য গ্রহণ করলো এসকল তথ্য জানা যায়।সবচেয়ে বড় কথা হল অর্থের অপচয় রোধ হয়।এনালগ মার্কেটিং এর তুলনায় অতি অল্প খরচেই আপনি আপনার পণ্য বা সেবার মার্কেটিং করতে পারবেন ডিজিটাল মাধ্যমে।

কোথায় করবো ডিজিটাল মার্কেটিং ?

ডিজিটাল মার্কেটিং করার জন্য যে প্লাটফর্মগুলো আপনাকে সাহায্য করবে,তাহলে –

১.ফেইসবুক, ২. টুইটার , ৩. ইউটিউব , ৪. গুগল প্লাস , ৫. ওয়েবসাইট , ৬. ইনস্টাগ্রাম

কিভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং করতে হয়?

ডিজিটাল মার্কেটিং এ যেসকল বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত হয় অর্থাৎ যে উপায়ে ডিজিটাল মার্কেটিং করতে হয় তা হল –

* SEO ( Search Engine Optimization ) – on page / off page

* SMM (Social Media Marketing )-FB ,Youtube ,twitter

* Online Advertising

*Affiliate Marketing

*Content Marketing

*Mobile Marketing

*Email Marketing

*Article writing

*Website

আপনি আপনার ব্যবসার জন্য বিভিন্ন মার্কেটিং কৌশল ব্যবহার করতে পারেন এবং এর মধ্য থেকে আপনাকে বেছে নিতে হবে কোন কৌশলটি ব্যবহার করলে বেশী লাভবান হবেন।ডিজিটাল মার্কেটিং একটি গতিশীল মাধ্যম এবং আপনি সবসময় আপনার কাজের উপর ভিত্তি করে কৌশল পরিবর্তন করতে পারবেন।

(তাসনিয়া জাবীন)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here