কিভাবে সঠিক ক্যারিয়ার নির্বাচন করবেন!

0
209
best career

এই প্রতিযোগিতা পূর্ণ জীবনে আমরা প্রত্যেকে চাই কোন কিছু না কিছু করে জীবনে সফল ও সুখী হতে।নিজের ক্যারিয়ার develop/অগ্রসর করতে।আমরা কোন ট্রিপে যাব ৭ দিনের জন্য তার জন্য একমাস আগে থেকেই প্ল্যানিং শুরু করে দেই।তাহলে ধরুন আগামী ৩০ বছরের ক্যারিয়ার নামক ট্রিপে যেতে হলে কতটা প্ল্যানিং করা উচিত একবার ভাবুন।স্বাভাবিক জীবনধারা অনুযায়ী ২৫ বছর থেকে ৫৫ বছর বয়স পর্যন্ত আপনাকে ৬-৮ ঘন্টা রোজ কাজ করতে হবে।আপনার জীবনের ১/৪ সময় যাবে কাজটা করতে।তাহলে আপনাকে অবশ্যই এমন কাজ বেছে নিতে হবে যেকাজে আপনার মনোনিবেশ সহজ ও আনন্দদায়ক হয়।এবার যদি কাজটা এরকম বের হয় ৫মিনিট কাজ করার পর আপনার সুইসাইড করতে ইচ্ছে করছে তাহলে বুঝতে হবে আপনার অবস্থা শোচনীয়।সাধারণত আমরা ক্যারিয়ার নির্বাচন করার জন্য দুইটা জিনিসকে importance / গুরুত্ব দিয়ে থাকি।
০১. মাসে কত টাকা রোজগার করা যাবে?

০২. লোকে শুনে কি বলবে?

যেখানে আসলে সবথেকে বেশী গুরুত্ব পাওয়া উচিত যে জিনিসটা সেটা হল কাজটার প্রতি আপনার আদৌ কোন আগ্রহ আছে কিনা? এই ব্যাপারটাকে আমরা ক্যারিয়ার নির্বাচন এর সময় খেয়াল ও করিনা।আমরা এমন কেন করি ? কারন হিসাবে যখন আমরা আমাদের পছন্দমত কিছু ক্যারিয়ার হিসাবে বেছে নেই তখন প্রথমেই মাথায় আসে মাসে কত টাকা ইনকাম করতে পারবো? আর যদি ব্যার্থ হয়ে যাই তো কি হবে? এই দুই ভয় আমাদের আগে এগোনোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।আর যদি আমরা পছন্দমত কাজ বাদ দিয়ে শুধু অর্থ উপার্জনের জন্য কাজ করা শুরু করি তখন আবার হতাশা বাড়তে থাকে।যার সব প্রভাব পড়ে আমাদের সম্পর্কে।অফিসের সমস্ত রাগ ঘরে এসে বেরোতে শুরু হয়, শরীর দিন দিন খারাপ হতে থাকে।জীবনে বাঁচার মতো আর কিছুই বেঁচে থাকেনা।তাহলে দুদিকেই সমস্যা রয়েছে।এমতাঅবস্থায় আমাদের করণীয় কি এই প্রশ্ন নিশ্চয় আপনার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে? আমাদের ৩ টি ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে হবে সঠিক পেশা নির্বাচনের খোঁজে।

০১. নিজের আগ্রহ বা interest খুঁজে বের করা।

০২. ব্যার্থ হওয়ার chance / সুযোগটাকে যৎসামান্য বা অল্প করা।

০৩.একটি নির্দিষ্ট মাসিক ইনকাম /রোজগার নিশ্চিত করা।

সবার আগে interest বা আগ্রহটা কোথায় বা কীসে তা খুঁজে বের করার জন্য প্রতিনিয়ত নতুন নতুন জিনিস try করতে হবে।তা যাই হোক না কেন,সেটা photography হতে পারে বা রান্নাবান্না করা হতে পারে অথবা হিসাব কিতাব রাখাই হোক না কেন।প্রতিমাসে একটা করে কাজ try করে যেতে হবে যতক্ষণ না পর্যন্ত আগ্রহের বিষয় খুঁজে পাওয়া না যাচ্ছে।কিছু কাজ এমন হয় যা শুরুতে করতে খুব ভালো লাগে কিন্তু একটু পুরোনো হয়ে উঠার পর কাজগুলো বিরক্তিকর লাগতে শুরু করে।আপনার ভালো লাগা খারাপ লাগা বুঝে উঠতে অবশ্যই আপনাকে কাজটি এক মাস অব্দি চালিয়ে যেতে হবে।আর লক্ষ্য রাখতে হবে কাজটির প্রতি আপনার আগ্রহ বাড়ছে নাকি কমছে।তারপর সেই অনুযায়ী আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।এভাবে খুঁজতে খুঁজতে আপনি যদি আপনার কাঙ্খিত আগ্রহের বিষয় খুঁজে পেয়ে যান তাহলে তো সোনায় সোহাগা ব্যাপার।কারন যদি আপনার কাজটা তে প্রকৃত আগ্রহ থাকে তাহলে আপনি কাজটিতে খুব সহজেই মনোনিবেশ করতে পারবেন।যদি আপনার মধ্যে কর্মদক্ষতা থাকে তাহলে সুযোগ আজ না হয় কাল পেয়ে যাবেন।তখন শুধু আপনার অনুশীলন চালিয়ে যেতে হবে চোখ আর বুদ্ধি দুটোই খোলা রেখে যাতে আপনি সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেন।এবার যদি আপনি না জানেন যে আপনার আগ্রহ কোন বিষয়ে অথবা আপনি এখনো সেটা খুঁজে বেড়াচ্ছেন তো সেক্ষেত্রে আপনার ক্যারিয়ার নির্বাচন করার সময় একটা বিষয় বিবেচনা করতে হবে ।আর সেটা হল আপনার একাগ্রতা শক্তি/ক্ষমতা কেমন?যদি আপনার একাগ্রতা ক্ষমতা খুব ভালো হয় ,মানে যদি আপনি এমন কোন কাজে নিজের একাগ্রতা ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে রাখতে পারেন যাতে আপনার কোন আগ্রহ নেই ।তাহলে সেক্ষেত্রে আপনি highly competitive field ট্রাই করার জন্য নির্বাচন করতে পারবেন ।যেমন : IIT ,IIM অথবা মেডিকেল ফিল্ড।কিন্তু যদি আপনার একাগ্রতা ক্ষমতা মধ্যবর্তী হয় ,অর্থাৎ আপনি ঘন্টার পর ঘন্টা বই পড়তে পারেন না কিছু সময়ের জন্য হলেও পারেন তাহলে আপনাকে low competitive field নির্বাচন করতে হবে।আর সেখানে আপনি স্মার্ট ওয়ার্ক শুরু করতে পারবেন।

এবার আসি স্মার্ট ওয়ার্ক কি ?(What is smart work?)

০১. বোঝাপড়া একদম ক্লিয়ার রাখা

০২.যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ানো

০৩.মার্কেটিং কৌশলগুলো ভালোভাবে জানা ।

যদি আপনার কাজের ব্যাপারে বোঝাপড়া স্পষ্ট থাকে তাহলে আপনি জানবেন কাজটি কিভাবে করতে হয়,ক্লায়েন্টসরা কি চাই আপনার কাছে ,আর আপনার সেবা কিভাবে আরো ভালো করা যায়।আর যদি যোগাযোগ দক্ষতা ভালো হয় তাহলে আপনি আপনার কাস্টমারদের বোঝাতে পারবেন কেন আপনার সেবা তাদের কেনা উচিত।যদি মার্কেটিং জ্ঞান খুব ভালো হয় তাহলে আপনি তখন আপনার সেবাগুলোকে ম্যাক্সিমাম লোকের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন।

সঠিক ক্যারিয়ার নির্বাচনের জন্য সর্বপ্রথম চেষ্টা করতে হবে নিজের interest এবং strength খুঁজে বের করা ।কিন্তু যদি আপনি আপনার আগ্রহের বিষয় খুঁজে না পান তাহলে তখন আপনাকে আপনার concentration power এর উপর ভিত্তি করে নিজের ক্যারিয়ার নির্বাচন করতে হবে ।যদি আপনার একাগ্রতা ক্ষমতা খুব উচ্চ্ হয় তবেই highly competitive field এ ক্যারিয়ার অথবা যদি একাগ্রতা ক্ষমতা মিড্ হয় তাহলে low competitive field এ ক্যারিয়ার নির্বাচন করে সেখানে স্মার্ট ওয়ার্ক করা শুরু করা উচিত।কারন তবেই আপনার ক্যারিয়ার সফল হওয়ার চান্স সবচাইতে বেশী থাকবে।

(তাসনিয়া জাবীন)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here