আপনার কম্পিউটার ম্যালওয়্যার এ আক্রান্ত হলে করনীয় কি?

0
436

ম্যালওয়ার এর পূর্ণরুপ হচ্ছে ম্যালিসিয়াস সফটওয়্যার।অর্থাৎ যেটা স্বাভাবিক কাজের বাইরে অস্বাভাবিক বা অবৈধভাবে আপনার কম্পিউটারকে এক্সেস করে। অর্থাৎ এটি একধরনের সফটওয়্যার প্রোগ্রাম যেটি একদম ঠিক নয়, এবং খারাপ ভাগ্যবসত যদি আপনার কম্পিউটারে প্রবেশ করে তবে আপনার পুরো কম্পিউটারটিকে অকেজো করে ফেলতে পারে। এখন বলেন আমি এমন ঘরে থাকি যেখানে দিনের আলোই দেখা যায় না তাহলে এই ম্যালওয়্যার আমাকে কিভাবে পাবে?
আরে ভাই আলো না পৌছালেও এখন ইন্টারনেট কিন্তু আপনার সাথেই আছে। আপনি যদি কোনো ম্যালিসিয়াস ওয়েবসাইটে ঢুকেন, কোনো ম্যালিসিয়াস সফটওয়্যার ডাউনলোড করেন, কোনো ম্যালিসিয়াস এড অন্স এড করেন, কোনো ম্যালিসিয়াস এডের উপর ক্লিক করেন, ম্যালিসিয়াস ইমেইল ওপেন করেন তাহলেই আপনার কম্পিউটারে ম্যালওয়্যার নামক ফহিন্নি ওয়্যারটা প্রবেশ করতে পারে।
তিন প্রকারের ম্যালওয়্যার রয়েছে যেগুলোর সাথে আমরা সকলেই আমরা কম বেশি পরিচিত। এগুলো হলো ভাইরাস, ট্রোজেন আর ওয়ার্মস। বাকিগুলো অন্য কোনো সময় সুযোগ পেলে আলোচনা করবো।
আসুন সংক্ষেপে জেনে নিই এই ৩টার কোনটা কি রকম কাজে এক্সপার্ট।

ভাইরাস
এটার সাথে সবাই কমবেশি পরিচিত। এটা আপনার কম্পিউটারে প্রবেশ করে নির্দিষ্ট ফরমেটের কিছু ফাইল বা নির্দিষ্ট কিছু এপ্লিক্যাশনকে নষ্ট করে দিতে পারে। যেমন, আপনার কম্পিউটারে কিছু ভিডিও হঠাত করেই ওপেন হচ্ছে না। অথবা আপনার কোনো সফটওয়্যার যেমন ভিডিও প্লেয়ারই আর কাজ করতেছে না। এমন ও হতে পারে এখন এই কম্পিউটার থেকে কোনো ভিডীও যদি অন্য কম্পিউটারে নেন তাহলে সেই কম্পিউটারেরও ফাইল বা এপ্লিক্যাশন অকেজো হয়ে যাবে।
ট্রোজেন
এটা হচ্ছে ভদ্র প্রকৃতির ম্যালওয়ার। একে দেখতে উপকারী মনে হবে। খুবই কাজের জিনিস মনে হবে। কিন্তু করে যাবে আপনার অনেক বড় ক্ষতি। এক কথায় এটা টাউট বা ধোঁকাবাজ প্রকৃতির ম্যালওয়্যার। মনে করেন আপনি একটা খুব সুন্দর কিন্তু ফেইক একটা এন্টিভাইরাস ইন্সটল দিলেন কোনো ওয়েবসাইট থেকে ভাইরাস ওয়ার্নিং। সেটা এসে খুব সুন্দরভাবে আপনার সব ফাইল গুলো স্ক্যান করলো আর পরে একটা ফাইলও আর ওপেন করতে পারলেন না। সব লক করে দিলো। আর চেয়ে বসলো টাকা। এভাবেই আপনার কম্পিউটারের সব কিছু এই ট্রোজেন এক্সেস নিয়ে নিতে পারে।
ওয়ার্মসঃ
এ ম্যালওয়্যার আপনার কম্পিউটারে ঢুকলে যমজ ৫ নাটক দেখাবে। হা হা হা। মানে এর কাজ ই হচ্ছে, একটা ফাইল বা ফোল্ডার কে একই নামে একাধিক ফাইল বা ফোল্ডারে বানিয়ে কম্পিউটার সিস্টেমকে স্লো করে দেয়া। এমন স্লো করবে মনে হবে এরোপ্ল্যান এর যুগে আপনি ঠেলাগাড়ি চালাচ্ছেন। আপনার এই ম্যালওয়্যার আক্রান্ত কম্পিউটার থেকে যদি কোনো ফাইল অন্য কোনো কম্পিঊটারে দেন তাহলে ঐ কম্পিউটারেও একই ঘটনা ঘটবে। যমজ ৫ নাটকের পরবর্তী অংশ অর্থাৎ যমজ ৬,৭,৮ … দেখাবে। একই নামে হাজার হাজার ফাইল ও ফোল্ডার তৈরি করে স্পিড স্লো করে আপনার কম্পিউটারকে গরুরগাড়ি বানিয়ে দিবে।
হ্যাকার রা কেন এই ধরণের ম্যালওয়্যার তৈরি করে?? তাদের কি লাভ এই ম্যালওয়্যার তৈরি করে?
আমি জানি এমন প্রশ্ন হয়ত অনেকের মাথায়ই ঘুরপাক খাচ্ছে। চলুন জেনে নিই এগুলো কেন করা হয়। যদিও ভাইরাস এবং অন্যান্য ম্যালওয়্যার কম্পউটারের ক্ষতিসাধনের জন্য তৈরী করা হয়, কিন্তু বর্তমানে অনেক ম্যালওয়্যার সংগঠিত অপরাধীদের দ্বারা ক্রেডিট কার্ড নম্বর এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য চুরি করার জন্য ব্যবহৃত হয় |সেই ডস কম্পিউটারের যুগেও ফ্লপি ডিস্কের মাধ্যমেও নানা রকমের ম্যালওয়্যার ছড়াত।
ম্যালওয়্যার কিন্তু শুধু যে আপনাকে বিরক্ত বা মজা করার জন্য তৈরী করা হয় তা কিন্তু নয়। এমনকি, ম্যালওয়্যার তৈরীর মূল উদ্দেশ্য কিন্তু আপনার কম্পিউটারটিকে ক্ষতিগ্রস্থ করাও নয়। ভাবছেন, ‘তাহলে’? ম্যালওয়্যার তৈরীর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ‘প্রফিট’ (লাভ) করা। এত সব ম্যালওয়্যার তৈরী করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মূলত স্বার্থ বা প্রফিট উদ্ধার করা। ক্রিমিনালরা ম্যালওয়্যার এবং অন্যান্য ক্ষতিকর সফটওয়্যার তৈরী করে শুধুমাত্র টাকা কামানোর জন্যেই।
বর্তমানে সকল ধরনের তথ্য বা ডাটা নিজের কম্পিউটার এ রাখা হয় এবং টিকেট বুকিং থেকে শুরু করে শপিং করা সবই নেটের মাধ্যমে করা হয়। আর সকল ধরনের পেমেন্ট ক্রেডিট কার্ড বা ভিসা কার্ড এর মাধ্যমে করা হয়।এইসব ডাটা হ্যাকাররা হাতিয়ে নেয়ার জন্য ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে থাকে। আর সবচেয়ে বড় কথা এখন শুধু হ্যাকাররা ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে তা না এখন সব দেশেই তাদের নিজস্ব প্রোগ্রামার ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ম্যালওয়্যার তৈরী করে থাকে।
এক দেশ আরেক দেশ থেকে ডাটা চুরি করবার জন্য এই ধরনের ম্যালওয়্যার তৈরী করে(বিশেষ করে উন্নত বিশ্বে সাইবার যুদ্ধ চলতেই থাকে)। সাম্প্রতিক সময়ে বিপজ্জনক একটি ম্যালওয়্যারগুলোর একটি উরুবুরস এটি নাকি নির্মাণের সঙ্গে রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতার পাওয়া গিয়েছে।
যাইহোক, এরকম আরও অনেক কারণ আছে যেগুলোর কারণে ম্যালওয়্যার তৈরি করা হয়। তাহলে আমি কি করে বুঝবো?? কোনটা ম্যালিসিয়াস ওয়েবসাইট? এর জন্যই কোনো না কোনো এন্টিভাইরাস ও এন্টি ম্যালওয়্যার ব্যবহার করতে হয়।তারাই বলে দিবে যে কোনটা ম্যালিসিয়াস ওয়েবসাইট বা ফাইল।

তো চলুন কিভাবে আপনি আপনার কম্পিউটার কে ম্যালওয়্যার মুক্ত রাখবেন?
ম্যালওয়্যার মুক্ত রাখতে এন্টিভাইরাসের বিকল্প নেই। কিন্তু একটি এন্টিভাইরাস সব এডভান্সড ম্যালওয়্যার রিমোভ করতে হয়ত সক্ষম হয় না। তাই আজকে আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি এমন একটি ফ্রী ওয়্যার যা এডভান্সড ম্যালওয়্যার রিমোভ করতে সক্ষম।
এই সফটওয়্যার যেকোনো এডভান্সড ম্যালওয়্যার ইঞ্জেকশনকে রিমোভ করতে পারে এবং আপনাকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদানে এন্টিভাইরাসকে সাহায্য করবে। এটা যেকোনো ম্যালওয়্যার প্রসেসকে টার্মিনেট করতে পারে এবং এ ম্যালওয়ারগুলো আপনি ম্যানুয়ালি বা কোনো কোনো থার্ড পার্টি রিমোভাল টুল দিয়ে রিমোভ করতে পারবেন।
Rogue applicationsদ্বারা পরিবর্তিত হোস্ট ফাইল, প্রক্সি সেটিং, ডিএনএস সেটিংস ইত্যাদি restore করতে পারবেন এই RogueKiller এর মাধ্যমে। RogueKiller ফেইক ইন্টারনেট সিকিউরিটি প্যারাসাইটস এর মত ম্যালওয়্যারকেও টার্মিনেট করতে সক্ষম। RogueKiller আপনার কম্পিউটারকে ম্যালওয়্যার মুক্ত রাখার রাস্তা পরিষ্কার করে দেয়। তবে আপনার কম্পিউটার কে ম্যালওয়্যার ইনফেকশন মুক্ত করার জন্য অবশ্যই ফুল ফিচার্ড এন্টিভাইরাস বা ম্যালওয়্যার রিমোভাল টুল ব্যবহার করতে হবে। তো আর দেরি কেন? এখনই ডাউনলোড করে নিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই সফটওয়্যার। যেটা সম্পুর্ণ ফ্রীওয়্যার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here