ব্লগ কি এবং কিভাবে ব্লগিং করে টাকা উপার্জন করবেন

0
33801
How-to-make-a-personal-blog

ব্লগ কি?
আমরা কম বেশি সবাই ব্লগ বা ওয়েব ব্লগ শব্দটির সাথে পরিচিত। যারা ভাবছেন “ব্লগ” এটা আবার কি? তাদের জন্য ব্লগ হচ্ছে বিশেষ ধরনের ওয়েব সাইট্, অনেকে একে ব্যাক্তিগত ডায়রীও বলে থাকে। তবে সময়ের সাথে ব্লগিং এর ধারাতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। এখন ব্যাক্তিগত ডায়রীর পরিবর্তে ব্লগ একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ওয়েব সাইট থেকে ব্লগের মূল পার্থক্য হল ওয়েব সাইট আপডেট করা হয় অনিয়মিত ভাবে অপরদিকে ব্লগ আপডেট করা হয় নিয়মিত ভাবে। এমনকি কিছু কিছু ব্লগ প্রতি মিনিটে আপডেট করা হয়।
কোন একটি নির্দিষ্ট ওয়েব সাইটে কোন বিষয়কে পাঠকদের মতামত প্রদানের জন্য তুলে ধরাকে ব্লগিং বলে। মত প্রকাশের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে এই ব্লগ আমাদের জীবন যাত্রায় এনেছে নতুন মাত্রা।
ব্লগিং করে কি আসলেই টাকা আয় করা যায়?
আপনি কি ব্লগিং করে কিংবা ব্লগে আর্টিকেল শেয়ার করে অনলাইন থেকে অর্থ উপার্জন করতে চাচ্ছেন? তাহলে আপনি এই বিষয়ের জন্য নিজেকে একা ভাববেন না। এখন অনেক ব্লগারই আছেন যারা ব্লগিং করে বা আর্টিকেল শেয়ার করে অনলাইল থেকে অনেক টাকা উপার্জন করছেন। আপনার যদি ইচ্ছা থাকে তাহলে সামান্য কিছু সময় ব্যয় করে খুব বেশী না হলেও মাসে অল্প কিছু টাকা উপার্জন করতে পারবেন। তবে আপনি যদি বেশী পরিমানে টাকা উপার্জন করতে চান তাহলে আপনি ব্লগিং প্রফেশন হিসেবে বেছে না নিলেও পার্ট টাইমের ফাকে এর পেছনে অনেক সময় ব্যয় করতে হবে। কারণ এর পেছনে অনেক সময় এবং শ্রম না দিলে ভাল মানের Amount অর্জন করতে পারবেন না। কাজেই কেউ যদি আপনাকে অনলাইন হতে টাকা উপার্জনের লোভনীয় কোন কৌশল দেখায় তাহলে সেটা হবে অনর্থক।
কিভাবে ব্লগিং করে টাকা উপার্জন করবেনঃ
এই পোষ্টে আমি এ সম্পর্কে বিস্তারিত কোন আলোচনা করবো না। শুধুমাত্র কিভাবে শুরু করবেন এটা নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করবো। পরবর্তীতে আমরা এ সমস্ত বিষয়ে বিভিন্ন পোষ্টের মাধ্যমে বিস্তারিত আলোচনা করবো…
প্রথমতঃ
আমি প্রথমে বলে রাখছি ব্লগিং করে টাকা উপার্জন করে কেউ বড়লোক কিংবা ধনী হতে পারবেন না। কিন্তু ভালমানের একটি Smart Amount এর টাকা উপার্জন করতে পারবেন এটি নিঃসন্দেহে বলা যায়। অনলাইন থেকে টাকা উপার্জনের বিভিন্ন প্রন্থা রয়েছে। আপনাকে প্রথমে বেছে নিতে হবে আপনি কোন উপায়ে করতে চান। আপনি যদি ব্লগিং করে টাকা উপার্জন করতে চান তাহলে আপনাকে সিলেক্ট করে নিতে হবে আপনি কোন বিষয়ে ব্লগিং করতে চান। এমন একটি বিষয় বেছে নেন যে বিষয়ে আপনি অভীজ্ঞ। এমন কোন বিষয় বেছে নেবেন না যে বিষয়ে আপনি জানেন বা ভাল জ্ঞান রাখেন না। যেমন- বেশীর ভাগ বাংলাদেশী ব্লগার আছেন যারা কোন বিষয়ে ভাল জ্ঞান না নিয়েই ব্লগিং আরম্ভ করে দেন। পরবর্তীতে দেখা যায় তাদের ব্লগের সমস্ত কনটেন্ট কপি করা। এ ধরনের ব্লগারদের আমি বলে রাখছি কখনোই আপনি সফল হতে পারবেন না। যে বিষয়টি আপনি পরিষ্কারভাবে ভাল জ্ঞান রাখেন কেবল সেই বিষয় নিয়ে ব্লগিং চালিয়ে যান। এ ক্ষেত্রে আপনি আরও কিছু টেকনিক অনুসরণ করতে পারেন। আপনি এমন একটি টপিক বেছে নিতে পারেন যে বিষয়ে অন্য কেউ ব্লগিং করছে না কিংবা কম লোক করছে। এ ক্ষেত্রে আপনার কম্পিটিটর কমে যাবে এবং ভিজিটর পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। আর ভিজিটর বেড়ে যাওয়ার মানেই হচ্ছে আপনার ব্লগ থেকে উপার্জনের পরিমান বেড়ে যাওয়া। তবে আপনি যে বিষয় নিয়েই লেখেন না কেন লেখাটি যেন হয় ইউনিক অন্যদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। কোন প্রকার কপি করা কনটেন্ট ব্যবহার করতে পারবেন না।
দ্বিতীয়তঃ
আপনার আর্টিকেল যখন ইউনিক হবে তখন আপনার সাইটের ভিজিটর নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। তখন আপনি আরও কিছু কৌশল অবলম্বন করতে পারেন। আপনি অবশই আপনার টপিক রিলেটেড কিছু সাইট ইন্টারনেটে পাবেন, আপনি তাদের কার্যক্রম ফলো করতে পারেন। অর্থাৎ তারা কি করে, কি ধরনের পোষ্ট করে এবং কিভাবে ব্লগিং করছে ইত্যাদি ইত্যাদি। তাই বলে তাদের সাইট থেকে কোন কনটেন্ট কপি করে নিতে পারবেন না। সবসময় আপনি প্লান-পরিকল্পনা মাফিক নিয়মিতভাবে ব্লগিং চালিয়ে যাবেন। তাহলে সফলতা পেতে আপনাকে বেশী দিন অপেক্ষা করতে হবে না।
ব্লগের প্রকারভেদ
কোন ব্লগে কি ধরনের পোস্ট দেওয়া হয় তার উপর ভিত্তি করে ব্লগকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকটি হল:
১. ব্যাক্তিগত ব্লগ
এখানে ব্যাক্তি কোন একটি বিষয়ের উপর তার মতামত পোষ্ট আকারে তুলে ধরেন এবং পাঠকদের সাথে এর উপর মতামত আদান প্রদান করেন। এই ধরনের ব্লগে সাধারনত কোন ব্যক্তি তার প্রতিদিনের জীবন যাত্রা এবং তার নিজস্ব মতামত প্রকাশ করে। ব্যক্তিগত ব্লগ বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয়। এ ধরণের ব্লগ ব্লগার তার নিজের শখ থেকে করে থাকে। তাদের ব্লগ কেউ পড়ুক বা না পড়–ক এতে তাদের কোন আসে যায় না। নিজের আনন্দ লাভ করা এ ধরণের ব্লগের মূল উদ্দেশ্য।
২. সামাজিক ব্লগ
সামাজিক ব্লগ হল এমন ব্লগ সাইট যেখানে বিভিন্ন ব্যক্তি তাদের মতামত বা মুক্ত চিন্তা তুলে ধরতে পারে। একজন ব্যক্তি একটি পোষ্ট দেবার পর উক্ত ব্লগের অন্যান্য ব্লগাররা তার পোষ্টর উপর মন্তব্য করতে পারে।
৩. ব্যবসায়িক ব্লগঃ
কোম্পানী/ প্রতিষ্ঠান তাদের কোন পন্য বা সেবার উপর নতুন নতুন তথ্য প্রদান করেন এবং পাঠক তাদের মতামত প্রদান করতে পারেন। এ ধরনের ব্লগ সাধারণত কোন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান তাদের পন্যের প্রচার বা গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ রক্ষার্থে করে থাকে।
৪. প্রশ্ন ব্লগ
প্রশ্ন ব্লগে ব্লগার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। এই প্রশ্ন কোন ফর্ম বা ই-মেইলের মাধম্যে ব্লগাদের কাছে পৌছান হয়।
৫. খবর ব্লগ:
যে সকল ব্লগে বিভিন্ন সামপ্রতিক খবরের উপর বিশ্লেষন স্থান পায় তাদেরকে খবর ব্লগ বা News Blog বলে।
আরো কয়েক ধরনের ব্লগ বর্তমানে খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যেমন মাইক্রো ব্লগ, টুইটার এমন একটি ব্লগ। এটি ব্যক্তিগত ব্লগের ভেতরেও পরে। এখানে কোন ব্লগার এখন কি করছেন বা ভাবছেন তা অতি সংক্ষিপ্ত আকারে লিখে থাকেন।
পোষ্ট করা ব্লগের ধরন অনুযায়ী ব্লগকে আবার কয়েকভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হল:
১) ফটোলগ: এ ধরনের ব্লগে ব্লগার তাদের ছবি আদান প্রদান করে থাকে।
২) ভিলগ: যে ব্লগে ব্লগার ভিডিও শেয়ার করা হয় তাকে ভিলগ বলে।
৩) লিংকলগ: বিভিন্ন ওয়েব সাইটের ঠিকানা দ্বারা গঠিত ব্লগ হল লিংকলগ
ব্লগকে আরো বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়।
ব্লগিং করতে যা যা প্রয়োজন
১.ব্লগিং করতে আপনার অবশ্যই যা প্রয়োজন তা হল আপনার কম্পিউটারে ইন্টারনেট কানেকশন।
২.একটা ইমেইল এ্যাকাউন্ট।
৩.নির্দিষ্ট ব্লগের সাইটে আপনার একটা ব্লগ এ্যাকাউন্ট।
৪.ব্লগ সাইটের নীতিমালা গুলো জানা থাকতে হবে।
যখন কোন ব্লগ তৈরি করতে হয় থখন আগে নিদির্ষ্ট করে নিতে হয় কি বিষয়ে ব্লগ তৈরি করা হবে এবং তার বর্তমান,ভবিষ্যৎ চিন্তা করতে হবে এবং সেই ব্লগ কিভাবে সবার কাছে গ্রহন যোগ্য হবে? তাই প্রথমে ব্লগ এর বিষয় ঠিক করতে হবে তারপর ব্লগটি খুলতে হবে।
কোন ব্লগ প্রকাশের পূর্বে অবশ্যই তার বিষয় বস্তু ছাড়া ব্লগ এর নাম দেওয়া যায় না। আর নামের সাথে ব্লগের বিষয় বস্তুর অমিল থাকলে তা কখনোই মানুষের কাছে গ্রহনযোগ্য হয় না। এখন আপনি যদি মোবাইল সম্পর্কিত কোন ব্লগ খোলেন এবং তাতে কম্পিউটার এবং আরো অন্যান বিষয় যোগ করেন তবে তা আপনার ব্লগ এর উপর খারাপ প্রভাব ফেলবে। তাই ব্লগের নামের সাথে বিষয় বস্তুর অবশ্যই মিল থাতে হবে। একটি ব্লগের বিষয় বস্তুই দিতে পারে একটি ব্লগের নাম। যেহেতু বর্তমানে ব্লগের নিদির্ষ্ট সুন্দর নাম পাওয়া খুবই কঠিন তাই সর্বদা চেষ্টা করবেন ছোট এবং সবার থেকে একটু আলাদা নাম খুজতে। সেটা ফি ডোমেন এ হোক আর কিনা ডোমেন এ হোক।
কিভাবে ব্লগিং করবেন
ব্লগিং করতে প্রথমেই আপনাকে নির্দিষ্ট ব্লগ সাইটে একটি ব্লগএ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।
বর্তমানে কিছু জনপ্রিয় ব্লগিং সাইট এর মধ্যে গুগলের ব্লগার অন্যতম।
উল্লেখও BLOGGER EXPERT এ শুধু গুগলের ব্লগার নিয়ে পোস্ট করা হবে।
কিভাবে লিখবেন সফল ব্লগ
ব্লগিং সার্থকতার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ব্যতিক্রমধর্মী রচনা। নিচের কয়েকটি পদ্ধতি অনুসরন করে আপনার ব্লগ লিখলে আপনার ব্লগটি শুধু জনপ্রিয়তাই পাবে না, এটি পাঠককে আবার আপনার ব্লগে আসতে আগ্রহীও করবে।
(১) ব্লগের মূলভাষ্যঃ
প্রতিটি ব্লগই একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর পাঠককে লক্ষ্য করে লেখা উচিত। আপনার ব্লগের প্রধান পাঠক শ্রেণী চিহ্নিত করুন। কোন কোন পাঠক আপনার ব্লগটি পড়বেন এবং কেন? আপনি আপনার ব্লগের মাধ্যমে কি অর্জন করতে চান শুধু এটাই ভাববেন না। পাঠক আপনার কাছ থেকে কি চায় সেটিও ভাবুন। তারপর সিদ্ধান্ত নিন, কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত এবং তারপর সেটির উপর লিখুন।
(২) দ্বিধাহীন বক্তব্যঃ
আপনার লেখায় মনের ভাব প্রকাশে কখনই দ্বিধা করবেন না। এতে লেখাটি পাঠকের কাছে আপনার পরিচয় করিয়ে দেবে। মনে রাখবেন পাঠকের সাথে আপনার সম্পর্ক যত বেশি ঘনিষ্ট হবে আপনার ব্লগ এর সফল হবার সম্ভাবনা তত বেশি থাকবে।
(৩) শুধু লিংক দিয়ে দায় মুক্ত হবেন নাঃ
ব্লগিং একটি সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই অনেক সময় দেখা যায় অনেকে তাদের পোষ্টে অন্য আরেকটি অনলাইন পোষ্টের লিংক যোগ করে দিয়ে দায়মুক্ত হতে চান। এই ভুলটি কখনই করবেন না। পাঠক আপনার লিংকের মাধ্যমে কোন মজার কিছু পড়তে চান না। এমনও হতে পারে পাঠক আপনার ব্লগ থেকে আপনি তাকে যেখানে পাঠাচ্ছেন সেই ব্লগটি বেশি পছন্দ করে ফেলতে পারে। ফলে আপনি পাঠক হারাবেন। বরং পাঠক ধরে রাখতে আপনার ব্লগে উক্ত লিংকের উপর আপনার মতামত জানিয়ে বিস্তারিত জানার জন্য লিংকটি দিয়ে দিতে পারেন। মনে রাখবেন কোন মন্তব্য ছাড়া একটি লিংক পাঠক হারানোর প্রথম লক্ষণ।
(৪) উৎস সরবরাহ
কখনই কোন অনলাইন ব্লগ বা ওয়েবসাইট থেকে লেখা চুরি করে কপিরাইট লঙ্ঘনের চেষ্টা করবেন না। এতে যেমন আপনি আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন তেমনি পাঠকও হারাতে পারেন। তবে আপনি যদি কোন ওয়েবসাইটে এমন কোন তথ্য পান যা আপনি আপনার ব্লগে আলোচনা করতে চান তাহলে ঐ ব্লগ বা ওয়েবসাইটের একটি লিংক যুক্ত করে দিন, তাহলেই আর কোন সমস্যা থাকবে না তবে কপি পেস্ট এড়িয়ে চলাটাই অতি উত্তম।
(৫) লেখাকে সাজান
আপনার ব্লগ পোষ্টের দৃষ্টিনান্দকিকতা আপনার আলোচনার বিষয় বস্তুর মতোই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার ব্লগ পোষ্টটি ছোট ছোট অনেকগুলো প্যারা করে সাজান। প্রতিটি প্যারায় সম্ভব হলে দুই বা তিনের অতিরিক্ত বাক্য ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। বেশিরভাগ পাঠক অনেক বাক্যের জড়োসড়ো করে সাজানো ব্লগ পড়তে আগ্রহী হন না। ব্লগে যথেষ্ঠ ফাকা জায়গা পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষনে সক্ষম হয় এবং পাঠককে সম্পূর্ণ ব্লগ পোষ্টটি পড়তে আগ্রহী করে। তবে সবসময় অল্প কথায় পোষ্ট দেবার চেষ্টা করুন যা পাঠক সহজে পড়তে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here